Printed on Sat Sep 25 2021 9:37:19 AM

সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর: এখনও বিচারাধীন ৪১ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
সিরিজ
সিরিজ
দেশে জঙ্গি তৎপরতা শুরু হয়েছিল প্রায় দেড় যুগ আগে। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল জামা’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ওই দিন দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন জেএমবি প্রায় পাঁচ শ’ স্পটে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। ১৬ বছর আগের সেই ঘটনায় করা মামলাগুলোর মধ্যে এখনও ৪১টির বিচার শেষ হয়নি।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলায় দুজন নিহত ও ১০৪ জন আহত হন। অন্যান্য জঙ্গি হামলার তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও এই ঘটনায় ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে জেএমবি। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করলে জেএমবি কয়েকটি জেলায় আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। অবশ্য মাস ছয়েকের মধ্যে জেএমবির সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক অনেকটাই ভেঙে যায়। গ্রেপ্তার হন এর প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমান এবং শীর্ষস্থানীয় নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ তখনকার গুরুত্বপূর্ণ সব নেতা। ২০১৭ সালে শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ শীর্ষ পাঁচ নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়।

তবে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়লেও বিলুপ্ত হয়নি। এরই মধ্যে জেএমবি থেকে একটা অংশ বেরিয়ে আইএস মতাদর্শীদের সঙ্গে মিলে নতুন জঙ্গি সংগঠন করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটাকে বলেছে নব্য জেএমবি। এরা ২০১৬ সালে হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক অভিযানে নব্য জেএমবির বেশির ভাগ নেতা নিহত বা গ্রেপ্তার হন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেএমবি ও নব্য জেএমবি এখন অস্তিত্বসংকটে আছে। এই জঙ্গিদের বড় কোনো হামলা চালানোর সক্ষমতা এখন নেই। যখনই যারা সক্রিয় হয় তাদের নজরদারিতে এনে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে ১৫৯টি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০২টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। তাতে ৩৩৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা। তাদের মধ্যে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠাকালীন ১৫ জন নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন ৩৫৮ জন। সর্বশেষ চারটি মামলার রায় হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। তাতে ১৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। খালাস পান একজন। আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় পুলিশ ইতিপূর্বে ১৬টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।

এখনো বিচারাধীন আছে ৪১টি মামলা। এর মধ্যে ঢাকার আদালতে রয়েছে পাঁচটি মামলা। বিচার শেষ হতে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক দিন আদালত বন্ধ ছিল। এখন আদালত খুলছে। তবে সাক্ষীর আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন না। বারবার সমন দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে অবশ্য অনেকের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নিয়ে বিচারকাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, দেশে এখন জঙ্গি হামলার কোনো ঝুঁকি নেই। জঙ্গি দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি চলছে নিজস্ব গোয়েন্দা কার্যক্রমও।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51317
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ