Printed on Wed May 25 2022 3:46:48 AM

প্রাচীন সৌর ক্যালেন্ডার ছিল রহস্যময় স্টোনহেঞ্জ স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব
স্টোনহেঞ্জ স্থাপনা
স্টোনহেঞ্জ স্থাপনা
প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ইতিহাসবিদগণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্টোনহেঞ্জের রহস্য খুঁজে বেড়াচ্ছেন। যা বিশ্বের গবেষকদের কাছে আজও এক বিস্ময়ের নাম। কী করে তৈরি করা হয়েছিল এই বিশালাকৃতির পাথুরে স্তম্ভ? কোন উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছিল? এরকম আরও হাজারো প্রশ্ন স্টোনহেঞ্জকে ঘিরে তৈরি হয়েছে, যার উত্তর কেউই সঠিকভাবে দিতে পারেনি। যুগ যুগ ধরে এসব উত্তর উদ্ধারের চেষ্টা করছেন গবেষকরা। তবে অনেক যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে যেমন রয়েছে নানান তত্ত্ব, তেমনি রয়েছে অনেক মুখরোচক রহস্যময় গল্প।

তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন তথ্য। বলা হচ্ছে, স্টোনহেঞ্জ আদতে ছিল বছরের মাস ও দিনের হিসাব রাখার সৌর ক্যালেন্ডার। খবর সিএনএনের।

স্টোনহেঞ্জ নিয়ে নতুন এ গবেষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক টিমোথি ডারভিল। বছরের মাস আর দিন থেকে শুরু করে অধিবর্ষের (লিপইয়ার) হিসাবও কীভাবে স্টোনহেঞ্জের মাধ্যমে করা হতো, গবেষণায় তুলে ধরেছেন তিনি।

গবেষণা বলছে, স্টোনহেঞ্জে দুই ধরনের পাথর রয়েছে। লম্বা আকৃতির সরসেন স্টোন (বিশেষ ধরনের পাথর) ও ছোট আকৃতির ব্লুস্টোন। ধারণা করা হয়, ওয়েলস থেকে আনা ব্লুস্টোনগুলো পাঁচ হাজার বছর আগে প্রথম স্থাপন করা হয়েছে। কয়েক শ বছর পর সরসেন স্টোন বসানো হয়। এই পাথরগুলো স্টোনহেঞ্জের কাছ থেকেই সংগ্রহ করা।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটির সবচেয়ে বাইরের দিকের বৃত্তটি তৈরি করা হয় সারি করে বসানো ৩০টি সরসেন স্টোন দিয়ে। এগুলোর ওপর সাজানো ছিল ৩০টি পাথর। মাসের ৩০ দিন গণনা করতেই সরসেন স্টোনগুলো ব্যবহার করা হতো। স্টোনহেঞ্জে প্রতি মাসকে ভাগ করা হয়েছিল তিন সপ্তাহে। প্রতি ১০ দিনে এক সপ্তাহ গণনার জন্য সরসেন স্টোনগুলোর মধ্যে তিনটি নির্দিষ্ট করা ছিল।

মাসে ৩০ দিন করে ধরলে ১২ মাসে ৩৬০ দিন হয়। তবে অধিবর্ষ ছাড়া সৌর বছরে মোট দিনের সংখ্যা ৩৬৫।

আরও পড়ুন : সৌর ব্যতিচারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে

অধ্যাপক ডারভিল বলছেন, স্টোনহেঞ্জের বাইরের বৃত্তের ভেতরে পাঁচ জোড়া সরসেন স্টোন ঘোড়ার খুরের আকৃতিতে সারি করে বসানো ছিল। সেগুলো বাড়তি পাঁচ দিন গুনতে ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া বৃত্তের বাইরে বেশ খানিকটা দূরে চার কোনায় চারটি ছোট পাথর ছিল। প্রতি চার বছর পর অধিবর্ষ আসে। অধিবর্ষের বাড়তি এক দিনের হিসাব রাখতেই ব্যবহার করা হতো ওই চার পাথর।

গবেষণায় ডারভিল জানান, খাড়া করে রাখা সরসেন স্টোনগুলো যুক্তরাজ্যের একই স্থান থেকে সংগ্রহ করে স্টোনহেঞ্জে একই সময় স্থাপন করা হয়। যদিও এখন পাথরগুলোর ৩০টি মধ্যে মাত্র ১৭টির অস্তিত্ব আছে। আর সেগুলোর ওপর রাখা ২২টি পাথরের খোঁজ মেলেনি।

তারপরও প্রাচীন এ নিদর্শন নিয়ে কাজ করার পর এটাই বোঝা যায়, প্রাচীন নির্মাতারা স্টোনহেঞ্জের কাজ পুরোপুরি শেষ করেছিলেন। বাকি পাথরগুলো সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে।

আজকের দিনে সৌর ক্যালেন্ডারের সঙ্গে কারও তেমন পরিচিতি নেই। তবে প্রাচীন মিসরে এ ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছেন ডারভিল।

তিনি বলেন, একই সময় পূর্ব ভূমধ্যসাগর ঘিরে বিভিন্ন স্থানে এর ব্যবহার ছিল। হতে পারে এসব এলাকার মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করার পরই যুক্তরাজ্যে স্টোনহেঞ্জ তৈরি করা হয়।

১৯৮৬ সালে স্টোনহেঞ্জকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি হচ্ছে এই স্টোনহেঞ্জ। প্রতি বছর আট লক্ষাধিক দর্শনার্থী এই স্থানটিতে এসে ঘুরে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার স্টোনহেঞ্জের সংস্কার করা হয়েছে। সারসেনগুলোকে ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এদেরকে কংক্রিট দ্বারা মজবুত করা হয়েছে। তাছাড়া ক্রমাগত বাড়তে থাকা দর্শনার্থীদের সুবিধা করে দেয়ার জন্য বেশ কিছু ব্লুস্টোনকেও পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

ইতিহাসবিদ আর প্রত্নতত্ত্ববিদগণ যে তত্ত্বই দিক না কেন, স্টোনহেঞ্জের রহস্য পুরোপুরি অনাবৃত করা আদৌ সম্ভব নয়। হাজার বছরের পুরনো এই স্তম্ভটি কী উদ্দেশ্যে কারা বানিয়েছিল এসব কিছুই নিশ্চিত করে হয়তো জানা যাবে না। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, স্টোনহেঞ্জ যতদিন অক্ষত থাকবে, ততদিনই মানুষের নিকট এটি একটি রহস্য হয়ে থাকবে।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/68632
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ