Printed on Wed Dec 01 2021 12:35:05 PM

স্থাপত্যের বিস্ময় আইফেল টাওয়ার

সোহাগ ফেরদৌস
বিশ্বভিডিও সংবাদ
আইফেল টাওয়ার
আইফেল টাওয়ার
চিত্রকলার জন্য ফ্রান্সের বেশ সুখ্যাতি আছে, নামকরা অনেক শিল্পীদের জন্ম এখানে। কিন্তু যারা শিল্প বোঝেন না, তারাও ফ্রান্সকে চেনেন অন্য এক আশ্চর্য স্থাপত্য দিয়ে। তা হলো আইফেল টাওয়ার। এটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের চ্যাম্প দি মারস নামক স্থানে অবস্থিত। এই টাওয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি দিনে যতটুকু লম্বা, রাতে তার চেয়ে খানিকটা ছোট হয়ে যায়। এর নির্মাতা গুস্তাফ আইফেল। তার নামেই এ টাওয়ারের নাম রাখা হয়েছে আইফেল টাওয়ার।

১৮৮৭ সালের ১৮ জানুয়ারি এর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ৩০০ শ্রমিক ২ বছর ২ মাস ৫ দিনের চেষ্টায় টাওয়ারটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। টাওয়ারটির ওজন ১০ হাজার ১০০ মেট্রিক টন এবং এতে ওঠার জন্য সিঁড়ির ধাপ রয়েছে এক হাজার ৬৬৫টি। সিঁড়ি বেয়ে পুরো টাওয়ারটিতে উঠতে গেলে পায়ের বারোটা বাজবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ১৮ হাজার ছোট ছোট লোহার অংশ থেকে এই পুরো কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে এবং এই অংশগুলো ২৫ লাখ নাট-বল্টু দিয়ে সংযুক্ত।

১৮৮৯ সালে ৩১ মার্চ সর্বসাধারণের জন্য টাওয়ারটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। টাওয়ারটিতে চড়ার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি লিফটও রয়েছে। এত উঁচু এই টাওয়ারে লিফট সংযোজন খুব একটা সহজ কাজ ছিল না, টাওয়ারের উচ্চতা আর কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে এখানে লিফট স্থাপন করতে ইঞ্জিনিয়ারদের ঘাম ছুটে গিয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো, এই টাওয়ারটির লিফটগুলো বছরে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে, তা সারা পৃথিবীর আয়তনের প্রায় ২.৫ গুণ।

যখন আইফেল টাওয়ার চালু হয় তখন তা ওয়াশিংটন মনুমেন্টকে হটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনায় পরিণত হয়েছিল। যা ছিল ৪০ বছর। ১৯৩০ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে ক্রাইশলার বিল্ডিং নির্মিত হলে আইফেল টাওয়ার তার গর্ব হারায়।

মরিচা ধরা থেকে বাঁচানোর জন্য প্রতি ৭ বছর পর পর টাওয়ারটি রং করা হয়। সম্পূর্ণ টাওয়ারটি একবার রং করতে ৬০ মেট্রিক টন রঙের প্রয়োজন হয়। ২৫ জন রংমিস্ত্রীর এক হাজার ৫০০টি ব্রাশে পুরো টাওয়ারটি রং করতে লাগে ২৫ মাস।

টাওয়ারটি নির্মাণের পর বিশেষজ্ঞরা এর কাঠামো দেখে মত দেন যে এর আয়ু ২০ বছর। কিন্তু ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়নি, এই আকাশছোঁয়া স্থাপত্যটিকে কোনো এক অদ্ভুত কারণে কেউই পছন্দ করতে পারছিল না। নামকরা সব চিত্রশিল্পী এবং লেখকরা এর বিরুদ্ধে লেখা শুরু করলেন। তারা বললেন, যে তারা ভেবেই পাচ্ছেন না যে, এমন একটা ‘কুৎসিত’ স্থাপত্য প্যারিসে থাকে কী করে!

শহরবাসীদের তোপের মুখে কর্তৃপক্ষ যখন প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল যে, এটি ধ্বংস করে ফেলা হবে। তখনই গুস্তাভ আইফেল একটা বুদ্ধি বের করলেন। তিনি টাওয়ারটিকে আবহাওয়া-গবেষণাগারে পরিণত করলেন। টাওয়ারটি অনেক উঁচু হওয়ার কারণে এর সাহায্যে বাতাসের গতিবেগ এবং আবহাওয়া নির্ণয় সম্ভব ছিল। এভাবে তিনি তার সাধের টাওয়ার রক্ষা করলেন। এখানেই শেষ না, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবার এই টাওয়ারটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন এটি রাখা হয় বেতার তরঙ্গের একটি ভালো পরিবাহক হিসেবে। এমন সব যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তার কারণে টাওয়ারটি বারবার বেঁচে যায় ভাঙ্গার হাত থেকে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ায়।

টাওয়ারের চূড়া থেকে পুরো শহরের সৌন্দর্য্য দেখা যায় বলে অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করে এ আইফেল টাওয়ার। প্রতি বছর কয়েক লক্ষাধিক পর্যটক প্যারিস আসেন শুধু মাত্র আইফেল টাওয়ারকে কেন্দ্র করে।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/56070
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ