Printed on Sun May 29 2022 4:53:33 AM

রাজধানীতে ৩০২ ভরি স্বর্ণ লুট: এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
স্বর্ণ লুট
স্বর্ণ লুট
রাজধানীর কচুক্ষেতে গত শনিবার ৫ ফেব্রুয়ারি রাঙাপরী জুয়েলার্স থেকে ৩০২ ভরি স্বর্ণসহ নগদ টাকা লুটের ঘটনায় চার অপরাধীর চেহারা সিসিটিভিতে শনাক্ত হলেও এখনও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ বলছে, সিসিটিভিতে থাকা চার ব্যক্তির চেহারা শনাক্ত করা গেছে। তাদের দুজন রজনীগন্ধা কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি গার্ড ক্লিনার ছিল। কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বেস্ট সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের মাধ্যমে দুজনকে চাকরি দেয়। ঘটনার পর ওই দুই ব্যক্তির তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, তারা নিজেদের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিল। চেহারা শনাক্ত হলেও তথ্যগত ভুলের কারণে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ কারণে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান বেস্ট সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডও ঘটনার দায় এড়াতে পারে না বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বর্ণের দোকানে চুরির ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ থেকে শনাক্ত হওয়া অপরাধীরা হলো নুর ইসলাম, আলম হাওলাদার ও মনির হোসেন। আরেক জনের নাম জানা যায়নি। সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে রজনীগন্ধা কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিল আলম। মনির ছিল পরিচ্ছন্নতাকর্মী। দুজনকে গ্রেফতার করা গেলেই সঙ্গে থাকা অন্য দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কাফরুলের বেস্ট সিকিউরিটির মাধ্যমে রজনীগন্ধা কমপ্লেক্সে চাকরি শুরু করে আলম এবং মনির। ঘটনার দেড় মাস আগে রজনীগন্ধা কমপ্লেক্সে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নেয় আলম। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে মনির হোসেন ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে যোগ দেয়। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুয়া তথ্য দিয়ে সিকিউরিটি এজেন্সির মাধ্যমে রজনীগন্ধা কমপ্লেক্সে চাকরি নেয় তারা। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগ বুঝে ৫ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রাঙাপরী জুয়েলার্স-এর দুটি দোকান থেকে তিন শতাধিক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে লাপাত্তা হয়।

এদিকে সিকিউরিটি এজেন্সিতে দেওয়া দুজনের তথ্যে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়েছে। এজেন্সিতে দেওয়া ভোটার আইডি কার্ড, চেয়ারম্যান সনদ, মোবাইল সিম-এর ঠিকানা—সবই ভুয়া। যোগাযোগের নম্বরটিও বন্ধ।

‘ঘটনার পর থেকে আমি যতটুক জানি পুলিশকে অবহিত করেছি’ উল্লেখ করে রজনীগন্ধা কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি সুপারভাইজার মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ঘটনার পর থেকে থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। সিকিউরিটি এজেন্সির কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। তবে ঘটনার পর বুঝতে পেরেছি ওরা পরিকল্পনা করেই এই মার্কেটে চাকরি নিয়েছিল।

৫ ফেব্রুয়ারি দোকান থেকে সোনা চুরির ঘটনায় সেই দিনই ভাষানটেক থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তারপর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুধু আশারবাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে হতাশা এবং ক্ষোভ জানিয়ে রাঙাপরী জুয়েলার্সের মালিক আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছি। এখনও চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়নি। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

রাজধানীর মিরপুর বিভাগের ভাষানটেক থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পরই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চার জনকে শনাক্ত করেছি। তাদের তথ্য নিতে গিয়ে বিভিন্ন গরমিল পেয়েছি সিকিউরিটি এজেন্সির কাজ থেকে।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বেস্ট সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন তথ্য আমাদের কাছে দিয়েছে। তবে এই ঘটনার দায় তারা এড়াতে পারে না। তথ্য যাচাই-বাছাই না করে তারা তাদের চাকরি দিয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেস্ট সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের জিএম শরীফ মাহমুদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের তথ্যগত যেসব বিষয় জমা রাখা হয় সেসবে ভুল ভ্রান্তি থাকতেই পারে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের ঘটনাও ঘটে। এটা এমন কিছু নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া কেমন জানতে চাইলে সেটা তদন্তের বিষয় বলে এড়িয়ে যান তিনি।

মামলাটি এখন তদন্ত করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। মিরপুর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে আমরা তৎপর। প্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/67012
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ