Printed on Wed Jan 19 2022 1:18:22 AM

ফেনীর বহুল আলোচিত ইয়াসিন হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ

জহিরুল হক মিলন, প্রতিনিধি
সারাদেশ
হত্যা মামলা
হত্যা মামলা
ফেনী সদর উপজেলার আলোকদিয়ায় আলোচিত ইয়াসিন হত্যার খারিজ হওয়া মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেল আদালত। বাংলাদেশ মানবাধিকার সম্মিলন (বামাস) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টুর আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউছুফ এ আদেশ দেন।

আলোচিত ইয়াসিন হত্যা মামলায় খারিজের পর দৈনিক ভোরের কাগজে ২০২০ সালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদের উপর ভিত্তি করে বামাস নিজ উদ্যোগে জেলা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ফেনীর আলোকদিয়া হতে ইয়াসিনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। তার মাথা ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। পর দিন তার মা হাজেরা বেগম ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করে। পরে সরোয়ার হোসেন সোহেলকে আসামি করে তিনি একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে কালো রঙের ছুরির কাভার, দুটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন, ১৫টি চাবি, একটি মানিব্যাগ, মানিব্যাগের ভেতর দুটি সিম ও ছয়টি মোবাইল নাম্বার লেখা টুকরো কাগজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।

এসআই সুমন চন্দ্র নাথ এ মামলার সাক্ষী গিয়াস উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, মো. রফিক, মো. আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, হাসান ইকবাল প্রকাশ শাহিন, আবু বকর সিদ্দীককে মামলার বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের প্রদত্ত জবানবন্দী ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন।
মো. রফিক, আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, ইউপি সদস্য হাসান ইকবাল প্রকাশ শাহিন, আবু বকর সিদ্দীক ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দী প্রদান করেন।

আরও পড়ুন : রাজধানীতে বিস্ফোরণ, দগ্ধ দুই শিক্ষার্থীকে আইসিইউতে ভর্তি

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রকাশিত আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন পুলিশ। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, ইমিগ্রেশন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকা, বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম ও ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিলেট, বিশেষ পুলিশ সুপার ইমিগ্রেশন (ল্যান্ড অ্যান্ড সি-পোর্ট) আবেদন করেন। কিন্তু এরপরও সোহেলকে ফেনী মডেল থানা থেকে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। এতে সরোয়ার হোসেন সোহেল বিদেশে পালিয়ে যায়।

এদিকে এসআই সুমন চন্দ্র নাথ নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে আইন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে। তিনি নিহত ইয়াসিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখেন আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে  বলে জানান। তিনি এ মামলা নিয়ে কিছু অগ্রসর হলে পরবর্তীতে পরশুরাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে বদলি করায় থমকে যায় মামলা।

এরপর মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীকে। কোনো কারণ ছাড়াই পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে মামলাটি নিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও বর্তমানে সোনাগাজী থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলামকে।

তিনি খুনিকে শনাক্ত ও না ধরে বরং খুনের বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এক মাসের মধ্যে একই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট (রিপোর্ট নং-১০) প্রদান করেন।

একই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত চূড়ান্ত রিপোর্টটি গ্রহণ করেন। ফেনীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহিম মামলাটি খারিজ করে দেন। জব্দকৃত আলামত বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির জন্য ফেনী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বাদী হাজেরা বেগম জানান, এসআই সুমন নাথ খুনের ঘটনায় সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে সন্দেহ করেছিলেন।

অভিযোগ আছে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাজেদুল ইসলাম সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের আসামি না করে আদালতে দ্রুত চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করেন।

ফেনীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠনের (বামাস) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নান্টু ও অ্যডভোকেট মানিক চন্দ্র শর্ম্মা জানান, খুনের ঘটনায় প্রকৃত তথ্য গোপন করে আসামিদের রক্ষা করতে পুলিশ একটি দায়সারা চুড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। আদালত পুলিশের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। চাঞ্চল্যকর লোমহর্ষক এ হত্যা মামলাটি কোনভাবেই খারিজ হতে পারেনা। হত্যাকাণ্ড ও হত্যাকারীদের বাঁচানোর অপচেষ্টার ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া জরুরী।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/62910
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ