Printed on Sun May 22 2022 2:05:02 PM

হাদিসুরের শেষ ফেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
হাদিসুরের
হাদিসুরের
বাড়ি ফিরলেই বিয়ের করার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী চলছিল কনে খোঁজার কাজ। হয়তো বাড়ি ফিরতে ফিরতে বিয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যেত হাদিসুরের। বাড়ি ফিরে বরের সাজে সেজে গাড়িতে করে নববধূ নিয়ে ফিরতেন তিনি। তবে আজও বাড়ি ফিরেছেন হাদিসুর। তার গাড়িতে লেখা 'লাশবাহী ফ্রিজিং'। সেখান থেকে নামানো হয় হাদিসুরকে। তার পরনে সাদা কাফন। দেহ বাক্সবন্দি। শুধু ওপরে লেখা নাম-পরিচয়। হাদিসুরের এমন ফেরা মেনে নিতে পারছে না পরিবার। পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ ভারী করে তুলেছে পুরো এলাকা।

ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলার কবলে পড়া বাংলাদেশি ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের তৃতীয় প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের মরদেহ নিজ বাড়ি বরগুনার বেতাগীতে পৌঁছেছে। সোমবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে লাশ এসে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাদিসের ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স।

হাদিসুরের মেজো ভাই তরিকুল ইসলাম বলেন, 'আমার বড়ই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি এবং আমার ছোট ভাই যাতে চাকরি পেতে পারি এ জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। '

এর আগে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে হাদিসুরের লাশবাহী টার্কিশ এয়ারের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে কিছু দাপ্তরিক কাজ শেষে দুপুর ১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাদিসের মরদেহ গ্রামের বাড়ি বেতাগীর উদ্দেশে রওনা হয়।

বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে হাদিসুর ছিলেন মেজো। পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাদিসের মরদেহ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হবে। হাদিসুরের ছোট চাচা জসিম হাওলাদার বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি হাদিসের দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, পরিবারের দাবি ছিল হাদিসুরের লাশ অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী সেই আশা পূর্ণ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন, হাদিসুরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

হাদিসুর রহমান বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের তৃতীয় প্রকৌশলী ছিলেন। জাহাজটি তুরস্ক থেকে রওনা হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর জলসীমায় নোঙর করে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হলে অলভিয়া বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

জাহাজটি ২৯ জন নাবিক ও ক্রু নিয়ে সেখানেই নোঙর করা অবস্থায় আটকা পড়ে। গত ২ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিট ও ইউক্রেন সময় ৫টা ২৫ মিনিটে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে রকেট হামলা হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। হামলায় জাহাজের ব্রিজ ধ্বংস হয়ে যায়। নিহত হন হাদিসুর রহমান।

পরে জীবিত ২৮ নাবিককে ৩ মার্চ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইউক্রেনের একটি বাংকারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের নিরাপদে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইউক্রেনের একটি বাংকারে ‘ফ্রিজআপ’ করে রাখা হয়েছিল হাদিসুরের মরদেহ।

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের ২৮ নাবিক ইউক্রেন থেকে মলদোভা, রোমানিয়া হয়ে গত ৯ মার্চ দুপুরে দেশে ফেরেন। হাদিসুর রহমানের মরদেহ গত শুক্রবার ইউক্রেন থেকে মলদোভা হয়ে রোমানিয়ায় আনা হয়। এরপর তা ঢাকায় পাঠানো হয়।

/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/69636
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ