Printed on Thu Jan 20 2022 11:36:23 AM

ইউনেস্কোর পুরস্কার জিতলো দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
হানাফিয়া মসজিদ
হানাফিয়া মসজিদ
জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা বা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকার কাছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো একটি মসজিদ। মসজিদটির নাম দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ।

বুধবার ১ ডিসেম্বর ইউনেস্কো তাদের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনলাইন অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখাস্তান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে প্রতিবছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। তাই এ পুরস্কারের নাম দেয় হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনসারভেশন।’

২০২১ সালে ছয়টি দেশের নয়টি স্থাপনাকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে জানায় ইউনেস্কো।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নে অবস্থিত এই মসজিদ নির্মিত হয় ১৮৬৮ সালে। তখনকার জনসংখ্যার বিবেচনায় এই মসজিদটি ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর মসজিদটি একাধিকবার সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

কালের পরিক্রমায় এই মসজিদের অবকাঠামো ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে মসজিদটিকে সংস্কার করে পুরনো রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেন সেখানকার সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ এ সংস্কার কাজের নেতৃত্ব দেন এবং ২০১৮ সালে এর সংস্কার কাজ শেষ হয়।

মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘দেড়শ বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণের সাথে তার পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরনোকে সাথে নিয়ে নতুনের কথা বলা।’

পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি এবং মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাবার জন্য স্থপতি মি. আহমেদ আবেদন করেন।

ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে বলে ইউনেস্কো বলছে। পুরনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ঠিকমতো হয়েছে কি না সেটি বিশ্লেষণ করে দেখে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ কমিটি।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, ইউনেস্কোর চাহিদানুযায়ী মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ।

স্থপতি আবু সাঈদ বলেন ‘সাধারণত বাংলাদেশে পুরনো মসজিদ ভেঙ্গে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। দেড়শ বছর আগে চুন-সুরকি দিয়ে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে পুরনোটা রেখে নতুনটা তৈরি করা হয়েছে। এবং পুরনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুরনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দেয় ইউনেস্কো। সেজন্য ২০০০ সাল থেকে এ পুরষ্কার চালু করেছে ইউনেস্কো।

এই অঞ্চলে পুরনো স্থাপত্যের কথা উঠলেই মসজিদ, মন্দির এবং চার্চসহ নানাবিধ ধর্মীয় স্থাপনা সামনে চলে আসে। এছাড়া কিছু জমিদার বাড়িও দেখা যায়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন জমিদার বাড়ি বিলীন হয়ে যাবার দশা হয়েছে।

স্থপতি আবু সাঈদ আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলের মসজিদগুলো আরব দেশের মসজিদগুলোর চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের। আমাদের পুরনো মসজিদগুলোতে কোথাও মিনার পাবেন না। মিনার বলতে বাঙালিরা সে রকম কিছুই চিনতো না। যেভাবে চুন-সুরকি দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হতো সেটিও অন্যদের তুলনায় ভিন্ন।’

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, যখন কোন অঞ্চলে বহিঃশত্রুর আক্রমণ হয়, তখন বাড়ি-ঘর নিশ্চিহ্ন করা হলেও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সাধারণত ধ্বংস করা হয় না। সেজন্য এগুলো টিকে থাকে যুগের পর যুগ।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/60191
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ