Printed on Sat Dec 04 2021 8:32:13 AM

সেকেন্ডে ৮০ বার ডানা ঝাঁপটায় ক্ষুদ্রতম পাখি হার্মিং বার্ড

তানজিলা বাবলী
ভিডিও সংবাদ
হার্মিং বার্ড
হার্মিং বার্ড
চড়ুই থেকেও ছোট্ট পাখি হামিং বার্ড প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার উড়তে পারে। চড়ুই থেকেও ছোট্ট একটি পাখি । যাদের সারাদিন ডানা ঝাপটিয়ে উড়াউড়িতে মোটেও ক্লান্তি নেই।

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট্ট এবং ক্লান্তিহীন পাখিটি হলো হামিং বার্ড। যার দেখা মিলে যা দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলে । আজ জানাবো হামিং বাড নিয়ে আজব কিছু তথ্য।

এই পাখি যখন ওড়ে তখন তার ডানার দ্রুত সঞ্চালনের ফলে বাতাসে গুনগুন শব্দ হয়। ইংরেজিতে গুনগুন করাকে হামিং বলে। এজন্যই এই পাখির নাম হামিং বার্ড।

হামিং বার্ড খুব শৌখিন একটি পাখি। এদের গায়ের রং অতি উজ্জ্বল। পালকের উজ্জ্বল রং ও বৈচিত্র্যের কারণে স্ত্রী পাখিদের তুলনায় পুরুষ হামিং বার্ড দেখতে বেশি সুন্দর। এই পাখির বাসা দেখলেই এর শৌখিনতার প্রমাণ মিলে।

অন্যান্য পাখি যেমন খড়কুটো, গাছের পাতা দিয়ে বাসা তৈরি করে, সেখানে এরা বাসা তৈরি করে নরম পালক এবং ফুলের পাপড়ি দিয়ে। সেই নরম তুলতুলে বাসায় এরা শুধু রাতেই বিশ্রাম নেয়। অবিরাম ছোটাছুটির কারণে দিনে বিশ্রাম নেয়ার সময় কোথায়?

গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার উড়তে পারে এরা। ওড়ার সময় এদের ছোট্ট দুটি ডানা গড়ে প্রতি সেকেন্ডে ৮০ বার ওঠানামা করে। তখন এদের ডানার পালক পর্যন্ত দেখা যায় না।

চোখে পড়ে শুধু আবছা এক রঙের ছটা। দ্রুত ডানা সঞ্চালনের আশ্চর্য এই ক্ষমতার জন্য হামিং বার্ড উড়ন্ত অবস্থায় শূন্যে এক জায়গায় স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে।

কারণ, উড়তে উড়তেই খাবারটা সংগ্রহ করে নেয়া যায়। এ জন্য পায়ের ওপর ভর দিয়ে কোনো ডালে বসতে হয় না। তাছাড়া পায়ের চেয়ে ডানার ওপরই এদের ভরসা বেশি।

হামিং বার্ড ফুল থেকে মধু খাওয়ার সময়ও শূন্যে ভেসে থাকে। এভাবেই তারা এক ফুল থেকে আরেক ফুলে গিয়ে মধু খায়। তারা সারাদিন যেহেতু ডানা সঞ্চালনের ওপর নির্ভর করে কাটায়, এ জন্য তাদের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে এই পাখি সারা দিনে প্রচুর আহার করে আর শক্তি সঞ্চয় করে।

অথচ রাতের বেলা এদের উল্টো অবস্থা। তখন শুধুই বিশ্রাম। ফলে রাতে এদের ক্যালরি খরচের ভয় নেই। একটি হামিং বার্ডের সারা দিন যে ক্যালরি লাগে, তা একজন বয়স্ক মানুষের প্রয়োজনীয় ক্যালরির তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বেশি।

শুধু পাখি কেন, পৃথিবীতে উষ্ণ রক্তের আর এমন কোনো প্রাণী নেই, যার দেহের অনুপাতের চেয়ে বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হয়। অথচ ছোট এই পাখি দৈর্ঘ্যে হয় মাত্র ৫.৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন হয় মাত্র ১.৬ গ্রাম। অর্থাৎ একটি কাগজের খামের ওজনের সমান এদের ওজন।

স্ত্রী হামিং বার্ড একবারে সাধারণত দুটি ডিম পাড়ে। সাদা রঙের এই ডিম আকারে যত ছোটই হোক না কেন তা স্ত্রী হামিং বার্ডের ওজনের ১৩ শতাংশ। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে তিন সপ্তাহ। তারপর এক মাসের মধ্যেই বাচ্চা উড়তে শিখে যায়।

হামিং বার্ড বেজায় সাহসী। সহজে হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়। কারণ, সাধ্যে না কুলালে ফুড়ুত করে উড়াল দিয়ে বিপদ এড়িয়ে কীভাবে পালাতে হয় তা এই পাখিই ভালোই জানে।

ভয়েস টিভি/আইএ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/58007
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ