Printed on Sun Oct 24 2021 1:52:14 PM

নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়া সেতু সংস্কার হয়নি ৪ বছরেও

ময়মনসিংহ
সারাদেশ
হেলে পড়া সেতু
হেলে পড়া সেতু
ময়মনসিংহ সদরে খালের উপর সেতু নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে। ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর উপর দিয়ে নেই চলাচলের রাস্তাও। দীর্ঘ ৪ বছরেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাগডহর ইউনিয়নের ফেরিঘাট থেকে সিরতা বাজার কাটা খালের উপর নির্মিত সেতুটি এখনো একপাশে হেলে আছে। যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ধসে পড়তে পারে সেতুটি। সেতুর উপর দিয়ে চলাচলের কোনো সংযোগ সড়ক নেই। রাস্তা ও মাটির ব্যাবধান এতটাই উঁচু যে সেতুতে ওঠা নামার জন্য নির্মাণ করতে হবে লিফ্ট। ফলে বাধ্য হয়ে দুই খালের নিচ দিয়ে লোকজন চলাচল করছে। ব্যবহারের অনুপযোগী এই সেতুটি ধসে পড়া কিংবা না পড়া নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।

খাগডহর ইউনিয়নের বিপ্লব হোসেন বলেন, বন্যার সময় ব্রক্ষপুত্র নদের পানি এই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়। খাগডহর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সেতুটি নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। দুর্বলভাবে সেতুটি নির্মাণ করে সরকারি টাকা বরং অপচয় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একদিনের জন্যও সেতুটি ব্যবহার করতে পারিনি। মই দিয়েও সেতুতে উঠা যায়না। মনে হয় সেতুতে উঠতে এবার লিফট নির্মাণ করতে হবে।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সাইদুর রহমান বলেন, সেতুটি ভালোভাবে নির্মিত হলে যাত্রী নিয়ে দ্রুত চলাচল করা যেতো। সেতুতে ওঠার জন্য কোনো রাস্তা নেই। ভাঙ্গাচোরা গর্তের উপর দিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। ফলে প্রতিদিনই গাড়ীর যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। রোজগারের বড় অংশ গাড়ি মেরামত করতেই খরচ হচ্ছে।

আরও পড়ুন : ভূমিকম্পে সিলেটে হেলে পড়েছে দুই ভবন, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

ষাটোর্ধ তাহের উদ্দিন বলেন, সেতু ভালা কইরা বানাইছে না। হুদাই উন্নয়নের স্বপ্ন দেহায়া (দেখিয়ে) ট্যাহা খরচ করছে। আমরার দুর্ভোগ শেষ হইতো না৷

স্থানীয়রা জানান, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে খালের উপর সেতুটি নির্মাণ করে দুই পাশে ভালো করে মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়নি। লোকদেখানো কিছু মাটি ফেলার কারনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরদিনই বন্যার পানির তোড়ে দু'পাশের এসব মাটি সরে যায় এবং ধীরে ধীরে হেলে পড়ে সেতুটি। ফলে সরকারি বরাদ্দে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেতুটি নির্মাণ হলেও এর সুবিধা ভোগ করতে পারেনি কেউ৷

২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মিত হয়। ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সেতুটি নির্মাণ শেষ হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। সেতুটি নির্মাণ করেন বরিশাল সদরের ‘মেসার্স মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুল হক ফারুক বলেন, সেতুটি নির্মাণের পরদিন বন্যায় ব্রক্ষপুত্র নদের পানির তোড়ে দু'পাশের মাটি সরে গিয়ে হেলে পড়েছিল। এজন্য সেতুটি তখন উদ্বোধন করা হয়নি। এ জন্য সরকারি বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়াও হয়নি৷ সেতু ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেতুটি আমার সময় নির্মিত হয়নি। বিস্তারিত তৎকালীন পিআইও বলতে পারবেন।

সেতু পুননির্মাণ হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বর্তমানে ৬০ ফুট দীর্ঘ সেতু খুব কম নির্মাণ করছে। এখন ৩০ থেকে ৪০ ফুট দীর্ঘ সেতু নির্মাণ হচ্ছে। হেলে পড়া কাটাখালী সেতুটির দৈর্ঘ ছিল ৬০ ফুট। এজন্য ওই স্থানে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুই নির্মাণ করতে হবে। উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে অচিরেই একটি প্রস্তাবনা পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। যদি আমরা অনুমোদন না পাই, তাহলে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করবে বলে আশা করছি।

ভয়েস টিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/55690
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ