Printed on Thu Dec 02 2021 4:48:16 PM

চার বছরে ৪৭ বার কেঁপেছিল দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
৪৭ বার
৪৭ বার
ভূমিকম্পে গত পৌনে চার বছরে ৪৭ বার কেঁপেছিল বাংলাদেশ।  দেশে বড় রকমের ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন,বারবার ভূমিকম্প হওয়ার অর্থ ফল্ট লাইনগুলো সক্রিয় আছে।

২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সংখ্যা বেড়েছে। ছোট ও মাঝারি মাত্রার এসব ভূমিকম্পের উৎসস্থলের ২০টি ছিল দেশের ভেতর, বাকি ২৭টি ছিল সীমান্ত এলাকাসহ আশপাশের দেশগুলো।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭টি ভূমিকম্পের প্রভাবে কেঁপেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ৪ বার, ২০১৯ সালে ৭ বার, ২০২০ সালে ১৫ বার এবং চলতি বছেরর প্রথম ৯ মাসে ২১ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ২৮ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মিয়ানমারের মানওয়া। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১৪ কিলোমিটার গভীরে।

আর ফল্ট লাইন সক্রিয় থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেমন ভূমিকম্প–সহনশীল ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিকম্প মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে নেওয়া।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি  বলেন, ‘গত দু-তিন বছরে দেশে ভূমিকম্পের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আবার ১০০ বছরের মধ্যে আমাদের এখানে বড় ভূমিকম্প হয়নি তেমন। এটা একটা জিনিস নির্দেশ করে যে এগুলো শক্তি সঞ্চয় করছে। ফলে সামনে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা আছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (পিডিএমপি) প্রকল্পের সাবেক পরিচালক আবদুল কাইয়ূম বলেন, ‘ছোট ছোট ভূমিকম্প হওয়ার অর্থ হলো এই ফল্ট লাইনগুলো সক্রিয়। সক্রিয়তাই প্রমাণ করে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

গত চার বছরের ৪৭ ভূমিকম্পের মধ্যে রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ ৬ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল। যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসামে। বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে ২০১৯ সালের ৬ মে, বঙ্গোপসাগরে। আর দেশের স্থলভাগের ভেতর রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে ২০২০ সালের ২৯ মে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে, ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর খাগড়াছড়িতে এবং চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি বলেন, ‘রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাংলাদেশের সীমানা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে। ভূমিকম্প যত কাছে হবে, তত বেশি ক্ষতি হবে। দেশের ভেতরে হলে তো ক্ষতি হবেই।’

বিষয়টিকে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সিলেট, আসাম ও মেঘালয়ে ভূমিকম্প হলে আমাদের রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট—এই বেল্টের অনেক ক্ষতি হবে। কারণ, এগুলো বড় বড় শহর ও ঘনবসতিপূর্ণ। আবার মিয়ানমারে হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। ৫-৬ মাত্রার হলে হয়তো রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের মতো সীমান্তবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব ঢাকায় চলে আসবে। এতে ঢাকার অনেক ক্ষতি হবে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পৌনে চার বছরের ৪৭টি ভূমিকম্পের মধ্যে ২০টির উৎসস্থল ছিল দেশের ভেতর। এর মধ্যে ১১টিই সিলেটে এবং বাকিগুলোর উৎসস্থল ছিল নাটোর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, খাগড়াছড়ি ও টেকনাফে। এ ছাড়া আরেকটির উৎসস্থল ছিল বঙ্গোপসাগর। সীমান্তবর্তী এলাকায় হয়েছে সাতটি ভূমিকম্প। এর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একটি এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে ছয়টি। এ ছাড়া ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে ১৮টি, মিয়ানমারে ১টি এবং ভুটানে ১টি ভূমিকম্প হয়েছে।

আরও পড়ুন : ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/55897
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ