Printed on Thu Jan 27 2022 12:17:03 AM

বেঁচে ফেরা যাত্রীরা দুষছেন সারেংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
ফেরা যাত্রীরা
ফেরা যাত্রীরা
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ও এর পরের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নৌযানটির মাস্টার, সারেং, সুকানিসহ সব স্টাফকেই দুষছেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তারা বলছেন, আগুন লাগার পরও দীর্ঘ সময় লঞ্চটি চালানো হয়। যার পরিণতিতে এত প্রাণ ঝরেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরও ৩০-৪০ মিনিট চালিয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে থামান লঞ্চের মাস্টার। কিন্তু যাত্রীদের ঝুঁকিতে ফেলে লঞ্চের মাস্টার, সারেং, সুকানিসহ সব স্টাফ পালিয়ে যান। ওই সময় কয়েকশ’ যাত্রী নামতে পারলেও লঞ্চে থেকে যান ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেসার্স নেভিগেশন কোম্পানির এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটির ধারণ ক্ষমতা দিনে ৭৬০ জন। তবে রাতে তা কমে হয় ৪২০ জন। এছাড়া লঞ্চটির লাইসেন্সের মেয়াদও ছিল চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় লঞ্চটি ২৫ জন স্টাফসহ ৩১০ জনের ভয়েস ক্লিয়ারেন্স দিয়ে টার্মিনাল ত্যাগ করে।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার সময়ই লোক ভর্তি ছিল। চাঁদপুরে থামালে সেখানে থেকে এতো পরিমাণ লোক উঠে যে, তিল ধারণের ঠাঁইও ছিল না। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকায় সুগন্ধা নদীতে পৌঁছালে রাত সাড়ে ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়। এ সময় কেবিন ও ডেকের বেশিরভাগ যাত্রীরা ঘুমিয়ে ছিলেন।

বেচেঁ যাওয়া যাত্রী বামনা উপজেলার মো. আবদুল্লাহ বলেন, আগুন দেখে নিচতলার ডেকের যাত্রীরা দোতলায় অবস্থান নেন। লঞ্চের স্টাফরা কেবিনের যাত্রীদের বের হতে নিষেধ করেন।

আরও পড়ুন : লঞ্চে নিহত পরিবার প্রতি পাবে দেড় লাখ টাকা

আবদুল্লাহ আরও বলেন, আগুন লাগার পরও লঞ্চটি প্রায় ৩০-৪০ মিনিট চালিয়ে প্রথমে ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা-ধানসিঁড়ি নদীর মোহনায় মোল্লাবাড়ি তোতা শাহর মাজার এলাকায় থামানো হয়। সেখানে লঞ্চের মাস্টারসহ সব স্টাফ নেমে যান। এ সময় কয়েকশ’ যাত্রী নেমে যেতে সক্ষম হন।

ওই লঞ্চের আরেক যাত্রী মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, অনেকে নামতে পারলেও লঞ্চে আটকা পড়েন কেবিন ও ডেকের ঘুমন্ত যাত্রীরা। এখান থেকে লঞ্চটি ভাসতে ভাসতে ঝালকাঠির দিয়াকুল গ্রামে সুগন্ধা নদীর তীরে আটকে যায়। সেখানেও বেশ কিছু যাত্রীকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। অনেকে লঞ্চ থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়েন। ভোর ৫টার দিকে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নদীর তীর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার শুরু করে।

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ যাত্রী রাসেল মিয়া বলেন, আগুন লাগার পর চালক ইচ্ছে করলে লঞ্চটি অনেক আগে থামাতে পারতেন। আগুন লাগার পরও তিনি লঞ্চটি অনেকক্ষণ চালিয়েছেন। পরে নদীর পাড়ে থামিয়ে লঞ্চের সব স্টাফ যাত্রীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে পালিয়ে যান। পরে হুড়োহুড়ি করে কয়েকশ’ মানুষ নামতে পেরেছেন। তবে যারা কেবিনে এবং ঘুমিয়ে ছিলেন তারা নামতে পারেননি। এছাড়া লঞ্চে অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। আমি ডেকে ছিলাম। প্রথমে টের পাইনি। পরে নামার চেষ্টা করেও পারিনি। ভাসতে ভাসতে ভোরে আরেকটা লঞ্চে পাড়ে গিয়ে ঠেকলে তখন স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করেন। আগুনে আমিও কিছুটা দগ্ধ হই।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, লঞ্চ ট্রাজেডির ঘটনা তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে মরদেহ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

ঝালকাঠির ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। বাকি ৯টি মরদেহ কোস্ট গার্ড উদ্ধার করেছে। হেলিকপ্টারযোগে র‌্যাব, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে উপ-পরিচালক কামাল ভূঁইয়া বলেন, তদন্ত ছাড়া এটি পুরোপুরি বলা সম্ভব না। তবে লঞ্চের যাত্রীরা বলছেন, ইঞ্জিনরুমে বিকট শব্দর পর পুরো লঞ্চে আগুন ধরে যায়।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/61618
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ